ছোটগল্প
Trending

জিবের আপদ ( ছোটগল্প ) মোর্শেদা হোসেন রুবী

★ “জিভের আপদ” ★

লেখাঃ-মোর্শেদা রুবিঃ

-“শাহান ভাই,কেমন দেখাচ্ছে আমাকে ?”
লালের সাথে কমলার কম্বিনেশনে একটা থ্রিপীস পড়েছে নীরা!নীরার চেহারা খুব আকর্ষনীয় না হলেও বয়সের একটা সৌন্দর্য্য তার চেহারাকে কমনীয় করে রেখেছে।
শাহান থমকে যায় ওকে দেখে।বলা ভালো, থমকে যাবার ভান করে….!
এই পরিসরে একটু বলে নেই!
শাহান নীরার বড়বোন ইরার হাজবেন্ড!
ইরা আর শাহান, দুজনে ভার্সিটি পড়াবস্থায় নিজেরা প্রেম করে বিয়ে করেছিলো!তারপরে অবশ্য ওদের পরিবারও মেনে নেয় বিয়েটা!
শাহান খুবই মিশুক প্রকৃতির ছেলে! সবার সাথে তো বটেই, বিশেষ করে শ্যালক-শ্যালিকাদের সাথে গালগল্প আর চটকদার দুষ্টামীতে শাহানের জুড়ি নেই।নীরা তো তার অন্ধ ভক্ত! সে খুবই মাই ডিয়ার টাইপ ছেলে।
ইরার সাথে তার বিয়ে হয়েছে মাত্র একবছর হলো!অথচ এরই মধ্যে সে পুরো বাড়ীতে সবার মন জয় করে নিয়েছে।হাসিখুশি,প্রানোচ্ছলতা আর সর্বোপরি তার মনভোলানো ব্যবহারের কারনে সে বুড়ো বাচ্চা সবার কাছে তো বটেই একমাত্র শ্যালিকা নীরার কাছে সে অধিক প্রিয় হয়ে উঠেছে!
ইরা গত দুদিন ধরে মায়ের বাড়ীতে আছে !
বড় চাচার একমাত্র ছেলে রেহানের আকদ উপলক্ষে সে নিজের পরিত্যক্ত রুমটাতেই এসে উঠেছে।ইচ্ছে আছে এখানে কিছুদিন থাকবে।
ইরাদের জয়েন্ট ফ্যামিলি বলে উৎসবটাও বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে।
ইরার ছোট বোন নীরা গোসল সেরে তার নতুন থ্রিপীসটা পরে ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখছিলো।
এমন সময় শাহান সেদিনের পত্রিকাটা খুঁজতে সে রুমে প্রবেশ করলে নীরা ওকে ডেকে এই প্রশ্নটা করলো, –“শাহান ভাই,কেমন দেখাচ্ছে আমাকে?”
শাহান কিছুক্ষণ ওর দিকে তাকিয়ে থেকে গম্ভীর স্বরে বলল-“মাইন্ড ব্লোয়িং!সত্যি,তোমাকে যত দেখি,তত নিজের জন্য আফসোস হয়!”
নীরার ভেতরটা কেঁপে উঠলো এ কথায়।
-“কেন?”
-“কেন যে আগে তোমার সাথে পরিচয় হলোনা!নইলে ঘটনা অন্যরকম হতো!তোমাকে আগে দেখলে তোমার আপাকে বিয়ে না করে তোমাকেই…..!”
বলতে বলতেই বিকট একটা হাই তুলল শাহান!
তারপর পত্রিকার পাতা উল্টে সোজা খেলার পাতায় চলে গেলো!
ওদিকে নীরা লাজুক হেসে তন্ময় হয়ে নিজেকে আয়নায় দেখতে লাগলো!শাহানের কথায় ওর মনের ভেতর এক ধরনের ইলিউশন সৃষ্টি হলো!আর নিজের চোখে ও নিজেকে অপরূপা দেখতে পেলো !সত্যিই তো কত সুন্দর সে!
আরো কিছু বলার জন্য মুখ তুলতেই দেখলো শাহানভাই ততক্ষণে চলে গেছেন।
*
দুপুরের পরপরই মেজফুপি উইথ ফ্যামিলি চলে এসেছেন।মেজফুপির মেয়ে নেহার সাথে নীরার খুব বন্ধুত্ব।সন্ধ্যেয় আকদ হবে এই উপলক্ষে নেহা খুব সুন্দর একটা রাজস্থানী ঘাঘরা পড়েছে।নেহা ওকে দেখে মুচকি হাসলো!ভাবখানা এমন,আমাকে নিশ্চয়ই অনেক অন্যরকম দেখাচ্ছে!
নেহা অবশ্য মনে মনে শাহান ভাইকেই খুঁজছে কারন শাহান ভাইয়ের মতো করে কমপ্লিমেন্ট আর কেউ দিতে পারেনা।একবার এক বিয়েতে খুব আড্ডা দিয়েছিলো শাহান ভাইয়ের সাথে।শাহান ভাই ওর এতো প্রশংসা করেছিলেন যে নেহার মনে তা গেঁথে আছে!
সারাবাড়ী খুঁজে অবশেষে শাহান ভাইকে লনে এসে পেল নেহা ! ক্রিকেট খেলোয়াড়দের মতো সাদা শার্ট প্যান্ট পড়ে বসে আছেন তিনি!মাথায় লাল ক্যাপ!
নেহা বুক পর্যন্ত হাত তুলে খুব কায়দা করে সালাম দিলো!
শাহান রমনীমোহন হাসি দিয়ে বলল-“আরে…নেহা যে..!আহ্,চোখ জুড়িয়ে গেলো! সো সুইট অফ ইউ! এতক্ষণে মনে হলো এটা একটা বিয়ে বাড়ী।তোমাকে যা গর্জ্যিয়্যেশ লাগছে না।কি বলবো।মাই হার্ট ইজ….জাষ্ট পেইনিং।”
লজ্জায় নেহার পা গুলো যেন ভারী হয়ে এলো ।চোখের পাতাগুলো ভারী হয়ে আসতে চাইছে।নাকের পাটা ফুলে উঠেছে।সমস্ত শরীরে এক অজানা শিহরন!
শাহান ততক্ষণে পত্রিকায় মনোযোগ দিয়েছে।নেহা খানিক ইতস্তত করে শাহানের পাশের চেয়ারের সামনে এসে দাঁড়িয়ে বললো-
-“বসতে পারি?”
শাহান পত্রিকা থেকে মুখ তুলে বললো-“উমম?”
তারপর সন্ত্রস্ত হয়ে বললো-” আরে বসো বসো!এটা জিজ্ঞেস করতে হয়? ইটস মাই প্লেজার!”
ঠোঁট মুড়ে হেসে নেহা বসে পড়লো।
শাহানকে নিরব দেখে নিজেই এটা ওটা জিজ্ঞেস করতে লাগলো নেহা আর শাহান বরাবরের মতোই চটকদার মন্তব্য করতে লাগলো।শাহানের প্রতিটি কথায় নেহা খিলখিল করে হাসতে লাগলো।
এসময় এই দিক দিয়েই নীরা মায়ের ঘরে যাচ্ছিলো!যাবার সময় সে দৃশ্যটা নীরা দেখে ফেললো।শাহান হাসিমুখে কি যেন বলছে আর নেহা হেসে গড়িয়ে পড়ছে।দৃশ্যটা নীরার বুকে বাজলো!যেদিকে যাচ্ছিলো সেদিকে না গিয়ে থমথমে মুখে নিজের রুমে ফিরে গেলো সে!
ঘন্টাখানেক পর নেহা আর নীরা মুখোমুখি হলো!নেহা হেসে বললো-“শাহান ভাইটা না এত্তো ফাজিল….কি বলবো!আমাকে বলে তুমি এই পর্যন্ত কয়টা ছেলের মাথা ঘুরাইছো! আমারই তো মাথা ঘুরতেছে…..!বু
ঝলি,শুনে তো আমি থান্ডার!আমাকে নাকি অপ্সরীর মতো লাগছে! আচ্ছা,তুইই বল্…!”
-“তুই এতো বেহায়া কেন বলতো?”
নেহা হাসিমুখে বলে যাচ্ছিলো কিন্তু নীরার আচমকা তীব্র আক্রমনে সে থমকে গেলো!
-“মানে?”নেহার আত্মসম্মানে লাগলো!
-“মানে কি, তা না বোঝার মতো বোকা তো তুই না!অযথা শাহান ভাইকে দেখলে গলে গিয়ে ঢলে পড়িস কেন?এসব কি?”
নীরা স্থান কাল পাত্র ভুলে প্রচন্ড রেগে গিয়ে যা মনে আসছে তাই বলতে লাগলো।নেহা বাকরুদ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলো!
*
কিছুক্ষণ পরেই দেখা গেলো নেহা কেঁদেকেটে চোখ ফুলিয়ে বাড়ী চলে গেলো।অগত্যা মেজফুপিকেও তার সাথে যেতে হলো।ইরার মা বারংবার জিজ্ঞেস করা সত্ত্বেও তিনি মুখ খুললেন না!মাথা ব্যথার অযুহাতে তিনি আর থাকলেন না!এদিকে নেহাও রেগে কাঁই!
ঘটনাটা ইরার কানে পৌঁছুলে সে নীরাকে বললো-“কি বলেছিস তুই নেহাকে যে ও চলে গেলো?”
নীরা নির্বিকার চিত্তে বলল-“যা বলেছি ঠিকই বলেছি।ও সবসময় শাহান ভাইয়ের চারপাশে ঘুরঘুর করবে আর আহ্লাদী মার্কা কথাবার্তা বলে ঢং দেখাবে!”
-“ছিঃ নীরা, এসব কি?শাহান তোর যেমন দুলাভাই হয়,তেমন নেহারও দুলাভাই হয়।কথা বলবেনা?এসব কি ধরনের ছেলেমানুষী?”
-“অসম্ভব,ও গায়ে পড়ে ঢং করে বেশী।আর এটা আমি ভালো করেই জানি যে,শাহান ভাইয়ের কাছে আমিই ওর থেকে বেশী স্পেশাল!”
মুখ ফসকে বলে বসলো নীরা।
ইরা অবাক হয়ে বোনের দিকে তাকিয়ে রইলো।তারপর সোজা নিজেদের রুমে গিয়ে শাহানকে জিজ্ঞেস করলো-“এ্যাই,তুমি নীরাকে কি বলেছো?”
শাহান শুয়ে শুয়ে টিভি দেখছিলো।ইরা নিজের হাতে তা বন্ধ করে দিলে শাহান উঠে বসলো!ঐদিকে ইরার এ্যাটিটিউড দেখেই নীরা বুঝেছে সে শাহান ভাইকে কিছু বলতে যাচ্ছে।সে নিজেও চুপিসারে ইরার ঘরের বাইরে এসে দাঁড়ালো!এখান থেকে ওদের সব কথাবার্তা পরিস্কার শোনা যাচ্ছে!
শাহান ভাই হাসছেন-“কি বলেছি?”
-“সেটাই তো জানতে চাচ্ছি!এমন কি বলেছো যে,নীরা নেহার সাথে মিসবিহেভ করলো,ওর ধারনা হলো যে তোমার কাছে ও সবচে স্পেশাল?অন্য কেউ সেখানে ভাগ বসাতে পারবেনা?”
-“উফ্..জান্…..তুমিও কি ছেলেমানুষী শুরু করলে!নীরা বাচ্চা একটা মেয়ে।ওকে ফান করে মাঝেমধ্যে দুএকটা কথা বলি তারমানে এই না যে,ও আমার কাছে স্পেশাল!এটা কি কখনো সম্ভব?তুমিই বলো?ওকে তো আমি আমার ছোট বোনের মতো দেখি !আর স্পেশালিটির কথা যদি বলো,সেটা আমার কাছে সবসময় তুমি!ইউ আর দ্যা ওয়ান এন্ড ওনলি পার্সন ইন মাই লাইফ হু ইজ স্পেশাল!”
বাইরে দাঁড়ানো নীরার মনে হচ্ছিলো ওর বুকের পাঁজরগুলো ভেঙ্গে গুড়িয়ে যাচ্ছে।ও ঠিকমতো নিঃশ্বাস নিতে পারছেনা!এ কি শুনলো সে! শাহান ভাই ওর সাথে এতোদিন ফান করে এসেছেন?সে টলতে টলতে মায়ের রুমে ঢুকে এসে দরোজা বন্ধ করে দিলো!
*
শাহান ইরাকে জড়িয়ে ধরে ওর রাগ প্রশমনের চেষ্টা করলো!ইরা বললো-“অযথা আমাকে পটিয়ে লাভ নেই,তুমি ভালো করেই জানো নীরার এখন যে বয়স,এ সময়টা খুব মারাত্মক।চট করে যে কোন কথা ওরা বিশ্বাস করে বসে,ওদের মনে একেবারে গেঁথে যায়।ওরা কোনটা ফ্ল্যাটারী আর কোনটা রিয়েলিটি তা ধরতে পারেনা।কেন যাও,ওসব বলতে?”
-“আরে একটা মাত্র শ্যালিকা আমার!”
-“ফালতু কথা রাখো!তোমার এই আচরণের কারনে সে এগ্রেসিভ হয়ে নেহাকে যা তা শুনিয়েছে।নেহা কাঁদতে কাঁদতে বাড়ী চলে গেছে।ওর সাথে ফুপিও চলে গেছে!”
-“ওহ্ হো…!এ তো দেখি বিরাট সমস্যা!”
শাহান কিছুটা চিন্তিত বোধ করলো!
*
রাত আটটার দিকে কাজী সাহেব চলে আসলেন।আকদ পড়ানো হয়ে গেলো।সবাই মিষ্টিমুখ করাতে ব্যস্ত!এর মধ্যে কেউ নীরাকে আর খোঁজ করেনি।মা সারাক্ষণই চাচীদের ফ্ল্যাটে।বড়চাচা আর ইরাদের মুখোমুখি ফ্ল্যাট বলে সারাক্ষনই দুই দরজা হাট করে খোলা!সারাক্ষণই আসাযাওয়া চলছে!
রাত সাড়ে দশটার দিকে ইরার আম্মা আতঙ্কিত হয়ে বললেন-“এ্যাই,আমার রুমের দরোজা তো ভেতর থেকে বন্ধ!মনে হয় নীরা ঐ রূমে।অনেকক্ষণ যাবৎ হলো ওকে দেখছিনা!অনেক ধাক্কালাম,ও দরোজা খুলছে না!”
এরপরের ঘটনা সহজেই অনুমেয়।
গেট ধাক্কাধাক্কি চললো অনেকক্ষণ !তারপর উপায়ান্তর না দেখে গেট ভাঙ্গা হলো এবং দেখা গেলো নীরা অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে!ওর হাতে মায়ের ঘুমের ওষুধের খালি বোতল !
সবাই যা বোঝার বুঝে নিলো!ইরা কেবল একবার জ্বলন্ত দৃষ্টিতে শাহানকে দেখে হাসপাতালে এ্যাম্ব্যুলেন্সের জন্য ফোন করতে ছুটলো।
সে যাত্রা নীরা বেঁচে গেলেও ইরা পুরোপুরি বেঁকে বসলো!সে শাহানের সাথে দেখা করা,কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে।শাহান কোনোভাবেই তার নাগাল পাচ্ছেনা।ইরা মা বাবাকে সোজা জানিয়ে দিয়েছে সে এই সম্পর্কটাকে আর রান করতে চায়না।মা বাবা অনেক বোঝালেন ইরাকে।কিন্তু সে অনড়।
তার একটাই কথা,আমি একটা সাধারন মানুষকে ভালবাসতে চেয়েছিলাম যে ঘোরপ্যাঁচ জানেনা।যার কারনে আজ আমার পরিবারে এতো অশান্তি তাকে আমি কিছুতেই মন থেকে মেনে নিতে পারবোনা! ভালো হয়েছে আমার এখনো কোন সন্তান হয়নি,হলে আটকা পড়ে যেতাম।তাই আমি চাইনা আমার বাচ্চার বাবা এমন কেউ হোক যাকে আমি বিশ্বাস করতে পারবোনা!”
সব শুনে শাহান পুরোপুরি মুষড়ে পড়লো!
*
অবশেষে আজ ইরা আর শাহানের বিবাহ বিচ্ছেদের দিন স্থির হলো!।শাহান পাংশুমুখে কাজী অফিসের গেটে দাঁড়িয়ে আছে।এই কাজী অফিসেই একদিন ওরা এক হয়েছিলো।আজ এখানেই ওদের বিচ্ছেদ হবে।ইরার পরিস্কার কথা,কোনো ঝামেলার দরকার নেই,মিউচুয়্যালি ডিভোর্স হবে ওদের।
শাহানকে ফোন করে জানিয়ে দিয়েছে পরদিন সকাল দশটায় থাকতে!
শাহানের ইচ্ছে ছিলোনা আসার কিন্তু ইরাকে আজ শেষবারের মতো রিকোয়েষ্ট করার সুযোগটা হয়তো সে পাবে!নইলে ইরা একা একাই ডিভোর্স দিয়ে দেবে তখন তো সুপারিশ করার সুযোগটাও সে পাবেনা।তাই ভেবেচিন্তে শাহান কাজী অফিসে যাবার সিদ্ধান্ত নিলো!
ইরা আসার সময় হয়ে গেছে!শাহান ব্যথিত চোখে পথের দিকে চেয়ে আছে! ইরা খুব জেদী মেয়ে।একবার রেগে গেলে ওর রাগ ভাঙ্গানো খুবই মুশকিল!শাহান জানেনা আজ ইরাকে ও বুঝিয়ে ফেরত নিতে পারবে কিনা!তাকিয়ে থাকতে থাকতে ওর চোখগুলো ভিজে এলো!দুচোখের পাতা বন্ধ করতেই তাতে ভেজা অনুভূতি টের পেলো।নিজের ভুলেই আজ ইরাকে হারাতে বসেছে সে।
একটু পরেই দেখা গেলো,ইরা সি এনজি থেকে নামছে।ওর সাথে ওর ছোট ভাই রাজও আছে।ভাড়া দিয়ে ঘুরে দাঁড়াবার মুহূর্তে ইরার পাশ ঘেষে একটা বাইক উল্কাবেগে ছুটে গেলো। যাবার সময় ইরার পার্সটা ধরে টান দিলো আর সেই টানেই ইরা মাটিতে আছড়ে পড়লো!পেছন থেকে আসা আরেক বাইক সোজা ইরার পায়ের উপর দিয়ে চলে গেলো।
পুরো ঘটনাটা এতো দ্রুত ঘটলো যে,কেউ কিছু বোঝার বা করার সুযোগটুকু পেলোনা!
সকলের সম্বিত ফিরলো শাহানের চিৎকারে।সে পাগলের মতো ছুটে গিয়ে ইরাকে কোলে নিয়ে সিএনজিতে উঠে ড্রাইভারকে হাসপাতালের দিকে চালাতে বললো!
*
শাহান দুহাতে মুখ ঢেকে দাঁড়িয়ে আছে।
ওটির বাইরে ইরার বাবা,মা,বড়চাচা দাঁড়িয়ে আছেন।সবাই আশঙ্কা করছে ইরার পায়ে হয়তো বড় ধরনের ফ্রাকচার হয়েছে!শাহান কাঁদছে!
বড়চাচা শাহানের কাঁধে হাত রেখে বললেন-“,দ্যাখো বাবা,তোমরা এ যুগের ছেলেমেয়েরা নিজেদের বুঝটাকেই গুরুত্ব দাও বেশী।
একটা কথা মনে রেখো, মানুষের এই জিভ হচ্ছে তার সবচে বড় শত্রু।এই জিভ তোমাকে জাহান্নামে নিতে পারে।এই জিভের কারনেই আজ তোমার জীবনটা তছনছ প্রায়।আমাদের রাসুল সাঃ বলে গেছেন-“যে ব্যক্তি তার দুই ঠোঁটের মাঝখানের এই জিভের জিম্মা
নিতে পারবে,আমি তার জান্নাতের জিম্মা নেবো!”
জিভকে সামলে রাখা কতোটা কঠিন হলে তিনি একথা বলতে পারেন!তোমরা আজকালকার ছেলেমেয়েরা পর্দা মানোনা,সবার সাথে ফ্রি মিক্সিংটাকে আধুনিকতা মনে করো,যা মনে আসে বলো,এটা বোঝোনা,জিভের আপদ কত বড় আকার ধারন করতে পারে!
যাও,দেখো….ইরার বোধহয় জ্ঞান ফিরেছে!”
*
পর্দা সরিয়ে শাহান কেবিনে ঢুকলো!ইরা অর্ধচেতনে ওকে দেখে চোখের পানি ছেড়ে দিলো!
শাহান ওর পাশে বসে ওর হাতটা টেনে নিয়ে বলরো-“আর ভুল হবেনা জান্,এবারের মতো মাফ করো!আমি স্বীকার করছি,সব দোষ আমার! এখন থেকে আমার মুখটাকে সামলে চলবো।আগে সামলে চললে এতো বড় অঘটন ঘটতোনা।প্লিজ,আমাকে মাফ করো।তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচবোনা,জান্!”
ইরা ধীরে ধীরে বললো-“আবার চাপাবাজি করছো?”
-“এটা চাপাবাজি না,জান্।আই স্যোয়্যার…আল্লাহর কসম।বিশ্বাস করো…..!”
শাহান কাতর স্বরে বলতে লাগলো!
শুনে শত যন্ত্রনার মাঝেও ইরার মুখে হাসি ফুটে উঠলো।

Tags

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close