ভালোবাসার গল্প

বজ্জাতের পেত্নী ( ভালোবাসার গল্প ) নিলান্তিকা নাদিয়া

কে বলছে তুই সুন্দর! ! তোকে দেখলে
তো
পেত্নী ও ভয় পাবে।”
কথাটা দিগন্ত ভালোভাবে শেষ ও করতে
পারেনি।তার আগেই রাদিয়া দিগন্তের
চুলের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
” কি বললি তুই।? তুই আজ শেষ। “
” পেত্নী চুল ছাড় বলছি।”
” তোর মাথার কাকের বাসা আজ আমি
সাফাই করেই তোকে ছাড়ব।”
” রাদিয়া ছাড় বলছি।”
রাদিয়া এর মধ্যে দিগন্তের ৪-৫ টা চুল
ছিড়েও ফেলেছে।কিন্তু দিগন্তের চুল
ছাড়ছেনা।
ওদের চিল্লাচিল্লি শুনে রাদিয়ার আম্মু
রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসে দেখে
রাদিয়া দিগন্তের চুল ধরে টানছে।
রাদিয়ার আম্মু খুব কষ্ট করে ওদের আলাদা
করে।
” দেখছ আনটি তোমার মেয়ে ত আজ আমাকে
টাক মাথা বানায় ছাড়ত।তারপর আমাকে কে বিয়ে
করতো ।”
” মা তুমি জানো ও আমাকে কি বলছে?”
” যাই বলুক।তোকে বলেছিনা ওর গায়ে তুই
হাত দিবিনা।”
” এটুকুনি একটা মেয়ে।দেখতে পাটকাঠি।
গায়ে নেই এক ছটাক গোশত।আর শক্তি
দেখছ?? “
” তুই কি বললি??? আমি পাটকাঠি? ?তুই এবার
শেষ। তোকে কে বাঁচায় আমি এবার তাই
দেখবো।মা তুমি সরো।”
রাদিয়া আবার ঝাঁপিয়ে পড়তে যায়
দিগন্তের উপর।
রাদিয়ার আম্মু খুব কষ্টে সামলায়
রাদিয়াকে।
আর এর মধ্যেই দিগন্ত দরজা খুলে পগারপার।
” তোমার লাই পেয়েই ওই বজ্জাত এমন
হয়েছে।
নিজের মেয়েকে সাপোর্ট করবে তা না
নিজের বান্ধবি র ছেলের দলে নাম
লিখিয়েছ তুমি।হুহ “
রাদিয়া হন হন করে নিজের রুমের বারান্দায়
যায়।
ব্যচারা দিগন্ত মাত্রই গেট থেকে বের হয়ে
গাড়ির লক খুলছে।
রাদিয়া সেটা দেখেই বারান্দায় থাকা
ফুলের টব থেকে দু হাত ভর্তি মাটি নিয়ে
দিগন্তের মাথার উপর ছেড়ে দেয়।
“ওই কে রে”
বলেই উপরের দিকে তাকায় দিগন্ত।
“ওই পেত্নী, শাঁকচুন্নি কি করলি তুই এটা?”
” ভালই করছি।বজ্জাত একটা,কাউয়া একটা”
” ওই তুই কি বললি? আমি কাক? “
” হ্য তুই কাক কাক কাক।”
” কালকে কলেজে আয় আগে, তোরে কি করি
দেখ?”
” কচু করবি তুই।”
” তোরে কিন্তু আমি ……”
” তুই যদি এখন না যাস তাহলে কিন্তু…..”
” তাহলে কি কি কি ….”
” থু থু দিব তোর উপর।”
থু থু দেওয়ার নাটক করতেই দিগন্ত গাড়ি র
মধ্যে ঢুকে যায়।
গাড়ির কাচ নামিয়ে মাথা বের করে বলে
” শাঁকচুন্নি তুই আগে কালকে আয়।”
রাদিয়া এবার সত্যি থুথু দিতে নিলে দিগন্ত
মাথা ঢুকিয়ে গাড়ি চালিয়ে স্থান ত্যাগ
করে।

“আরে কে এত কলিং বেল বাজাচ্ছে।মনে
হচ্ছে বেল টা আজই নষ্ট করে ছাড়বে।”
দিগন্তের মা দরজা খুলে আর কথা বলার
সুযোগ পায়না।
তার আগেই দিগন্ত ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বলে
” কখন থেকে বেল দিচ্ছি কোথায় ছিলা
তুমি? ?
মজ্ঞল গ্রহ থেকে এসেও দরজা খুলতেও এত
দেরি লাগার কথা না আর তুমি ঘরে থেকেও
এত সময় লাগাও।”
” তার আগে বল তোর এই অবস্থা কেন?”
” হবে না কেন বল? তোমার আদরের লাডলির
কাজ এটা।পেত্নী একটা

” কে রাদিয়া?”
” হ্যা ! ও ছাড়া আর কে হবে বল? ? আমার
কপালের উপস সরি চুলের শনি ত ও ই।”
” তুই ই নিশ্চয় ই ওকে কিছু বলেছিস। তাই ও
রেগে গিয়েছে। “
” হো তাই ই তো বলবা তুমি।তুমি ত ওর দলে
নাম লিখেয়েছ।
তোমার এই নিরিহ ছেলের উপর কত টর্চার
করে তুমি জানো?”
” তাই নাকি? ?”
” কেন তোমার কি স্বন্দেহ আছে নাকি?
দেখছ না মাথায় কাদা মাটি দিয়ে কি
করছে আমার।আবার বলে কি থুঃথুঃ দিবে
আমার উপর।
কোনো মত জীবন নিয়ে বাড়ি ফিরে আসছি।
” হাহাহা”
” তুমি হাসছ মা?? আমার উপর তোমার মায়া
হলনা? ওই পেত্নী আর তুমি এক।শুধু আনটি
ভালো।উনি না থাকলে ত তোমার ছেলে চুল
নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারতো না।তা তো তুমি
জানোনা।
আমাকে টাক করে ছাড়ত। তখন কে করত
তোমার ছেলেকে বিয়ে।
আর তোমার নাতি নাতনির শখ কে পুরন করত?
হ্যা?”
” হইছে হইছে যা আগে ফ্রেশ হয়ে আয়।”
“ওর বিয়ে হবেনা দেখে নিও ” বলেই
দিগন্ত হনহন করে ফ্রেশ হতে চলে গেলো।
ফ্রেশ হয়ে টাওয়াল দিয়ে মাথা মুছতে মুছতে
বের হল।
” কিরে আসমা নাকি তোর কাছে পিঠা
দিয়েছে।”
” ও হ্যা।আমার মনে ছিল না।দাড়াও দিচ্ছি। “
দিগন্ত হাতে একটা পিঠা নিয়ে মাত্র মুখে
দিয়েছে।
আর বিকট চিৎকার শুনে দৌড়ে এল দিগন্তের
মা।
” কিরে কি হল? ? বানরের মত লাফাচ্ছিস
কেন?”
দিগন্ত দৌড়ে টেবিলের উপর থেকে পানির
জগ নিয়ে এক ঢোকে পানি খেয়ে চেয়ারে
বসে পড়ল।
আর জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিতে থাকল।
” কিরে কি হয়েছে? “
” তোমার ওই আদরের লাডলি পিঠার মধ্যে
মরিচ দিছে। ও জানে আমি ঝাল খাইনা।
ইচ্ছে করে দিছে। ওরে আমি ছাড়ব না বলে
দিলাম।”
রাগে গজ গজ করে রুমে চলে এলো।
আর ফোন দিল রাদিয়া কে
” কিরে কাউয়া পিঠা কেমন লাগল?”
” পেত্নী তোরে যদি সামনে পাইরে!”
” তোর বক বক শুনার টাইম নাই আমার।হুহ”
টুক করে লাইন টা কেটে দিল সাথে ফোন টাও
অফ করে দিল রাদিয়া।
এই দিকে দিগন্ত রেগে থাকলেও ঝালের
জন্য ভালো মত চিল্লাতেও পারছেনা
ব্যাচারা।
সারারাত পানি খেয়েই পেট ভরেছে দিগন্ত
আর মিনিটে মিনিটে টয়লেটে গিয়েছে।
(ইয়ে মানে ছোট টা করতে।)
সকালে রেডি হয়ে রাদিয়া কলেজে এসে
ক্লাসেই বসে আড্ডা দিচ্ছে বন্ধুদের সাথে।
এর মধ্যেই স্যার এলো ক্লাসে।
আর যথারিতি আজও দিগন্ত লেট।
স্যার রা পর্যন্ত ওকে লেট লতিফ ডাকে।
” মে আই কাম ইন স্যার।”
” তুমি আজ কেও লেট?”
” ইয়ে মানে স্যার।” মাথা চুলকাচ্ছে দিগন্ত।
” বাহানা পাচ্ছো না তাই তো।বুঝেছি।আসো
ভেতরে।”
ক্লাসে ঢুকে দিগন্ত।
৩ বেঞ্চ পরেই রাদিয়া বসেছে কর্নারে।
দিগন্ত কে দেখে হাসছে।
দিগন্ত চোখ লাল করে তাকিয়ে আছে
রাদিয়ার দিকে।অন্য পাশের রাদিয়ার বেঞ্চের ১
বেঞ্চ পরে
বসেছে দিগন্ত। পাশ থেকে রিমি রাদিয়া
কে বলল
” কিরে আবার ঝগড়া লাগিয়েছিস?? আচ্ছা
তোরা না ছোট থেকে এক সাথে বড় হয়েছিস,
তাও তোদের দেখলাম না এক দিন তোরা
ঝগড়া ছাড়া ভালোভাবে আছিস।”
” ওই কাউয়া টাই ঝগড়া লাগায় আমি না।”
রাদিয়া বার বার পিছনে তাকিয়ে দিগন্ত
কে দেখছে আর ভেংচি দিচ্ছে।
দিগন্তের কালকের রাগ টাই কমে নি
আর এখন ত আরও রাগ লাগছে।
কিন্তু স্যার আছে তাই কিছু বলতেও
পারছেনা।
ক্লাস শেষ হতেই সবাই বের হয়।
দিগন্ত ইচ্ছে করে রাদিয়া কে ধাক্কা দিয়ে
বের হয়।
ব্যাচারি তাল সামলাতে না পেরে নিচে
পরে যায়।
রিমি রাদিয়া কে ধরে উঠায়।
” ওই কাউয়ারে আমি ছাড়ব না।কোথায়
গেলো বজ্জাত টা।””
রিমি রাদিয়া কে ধরে রাখতে পারেনা।
রাদিয়া লাইব্রেরি, কেন্টিন সব জায়গায়
খুঁজে মরছে দিগন্ত কে।
২ তালায় উঠে একটা ক্লাসের সামনে দিয়ে
যাওয়ার সময় দিগন্ত কে দেখে রাদিয়া।
” দিগন্তের বাচ্চা তুই শেষ। “
এমন হুংকার শুনে দিগন্ত ব্যাগ কাধে ঝুলিয়ে
দৌড় লাগায়।
পিছে পিছে রাদিয়া।
দিগন্ত পিছের দরজা দিয়ে পগারপার।
রাদিয়া আর ওকে খুজে না পেয়ে বাসায়
ফিরে আসে।
” রাদিয়া দেখ না কে এসেছে।দরজা টা খুল।
দেখছিস ত আমি কাজ করছি।”
” উফফ তোমার জ্বালায় টিভি দেখেও শান্তি
নাই।”
রাদিয়া দরজা খুলে সামনে দিগন্তের আম্মু
দাড়িয়ে।
‘ আরে আনটি তুমি? আসো আসো।”
দিগন্তের মা ঢুকে পিছে পিছে
দিগন্ত ঢুকতে নেয়।
” ওই তুই আসছিস কেন? তুই বের হো।বের হো
বলছি।”
” ওই আমি আমার আনটির বাড়ি আসছি তুই এত
কথার বলার কে। যা সর।”
রাদিয়াকে ঠেলে দিগন্ত ঢুকে গেলো।
” ওই তুই চ্যালেন চেঞ্জ করলি কেন? ? দে
রিমোট দে।”
” দিব না কি করবি কর।”
রাদিয়ার আম্মু বলে
” শারমিন ওরা বাচ্চাই রয়ে গেলোরে।চল
অন্য রুমে।ওদের জন্য ভালো করে যে কথা
বলব তার ও উপায় নেই।”
এর মধ্যেই
রাদিয়া আবার দিগন্তের চুলের উপর ঝাঁপিয়ে
পরে।
” তোকে আজ টাক বানিয়ে ছাড়বো।”
দুজন রিমোট নিয়ে টানা টানি করতে করতে
ফ্লোরে পরে।
রাদিয়া পরে দিগন্তের উপর।
ওর সমস্ত চুল এলোমেলো হয়ে পরে আছে
দিগন্তের মুখে।
মুখ থেকে চুল সরিয়ে আস্তে করে রাদিয়ার
কানের পিছনে গুঁজে দেয় দিগন্ত।
সাথে সাথে উঠে বসে রাদিয়া।
রিমোট টা ছুড়ে দেয় দিগন্তের দিকে।

নে তুই ই দেখ।আমি দেখব না।”
হনহন করে চলে যায় রুমে।
দিগন্ত উঠে বসে মাথা। চুলকাতে চুলকাতে
পিছনে তাকায় রাদিয়া নেই।
রাদিয়ার দেখা নেই অনেক্ষন।ভালো লাগছে না তাই
দিগন্ত
টিভির সামনে থেকে উঠে রাদিয়ার রুমের
সামনে যায়।ওদের সম্পর্কটা টম এন্ড জেরির মত।
কাছে থাকলে ঝগড়া আবার দূরেও থাকতে পারেনা।
দরজা নক করবে কি করবেনা ভাবতে ভাবতে
যেই নক করেছে তখনি দরজা খুলে রাদিয়া।
আর বাড়ি খায়।
” সরি সরি দরজায় নক করতে যেয়ে ভুল করে..”
” আমাকে কোন দিক দিয়ে তোর দরজা মনে
হয়? খাটাশ বজ্জাত। আর তুই আমার রুমের
সামনে কেন? “
” তোর কি মনে হয়য় তোরে দেখতে আসছি? ?
আমি টুলু মুলুরে দেখতে আসছি।”
দিগন্ত রাদিয়ার রুমের বারান্দায় চলে
গেলো।
সেখানে ২ টা লাভ বার্ড খাঁচা তে আছে।
রাদিয়া ওদের নাম দিয়েছে টুলু মুলু।
” ওই তুই টুলু মুলুর কাছে যাবিনা।”
” যাব না মানে? তুই কি ভুলে গিয়েছিস এদের
আমি দিয়েছি তোকে।?”
” তো কি হয়েছে? আমাকে দিয়েছিস মানে
এরা আমার তোর না।
তোর অধিকার নাই।”
” এহ! বললেই হল।তোর সব জিনিসের উপর আমার
অধিকার আছে।”
রাদিয়া বড় বড় চোখ করে জিজ্ঞেস করল
‘” কি বললি তুই? “
” কিছু না সর।”
দিগন্ত না বুঝেই কথাটা বলে ফেলে
রাদিয়াকে।
বাসায় এসে সারারাত ভাবতে থাকে
এটা কি বলে ফেলল রাদিয়াকে।
” মা আমার উঠ।আর কত ঘুমাবি?”
” মা আরেক টু।আজ ত কলেজ নাই।”
” আমি জানি।
দিগন্তের বাড়ি যাব। “
” কেন? “
” ওর বোন কে দেখতে আসবে তাই যেতে
বলছে।”
” হিয়া আপিকে দেখতে আসবে।দাড়াও এখনি
রেডি হচ্ছি। “
রেডি হয়ে ২ জনেই দিগন্তর বাড়ি আসে।
” দেখ পেত্নী ভালো করে সাজিস।তোকে
দেখে ভয়ে যেনো ছেলের বাড়ির লোক না
পালায়।তাহলে কিন্তু খবর আছে ।”
” আমাকে না তোকে দেখেই পালাবে।তুই
মেয়ে পাবি নাকি তাই দেখ।কাউয়া। হুহ।তোর বিয়ে
হবেনা দেখিস।”
রাদিয়া হিয়ার রুমে ঢুকে গেলো।সবাই
সন্ধ্যার আয়োজনে ব্যস্ত।
রাদিয়া হিয়াকে তৈরি করতে ব্যস্ত।
ছেলেপক্ষ সন্ধ্যায় হাজির।
রাদিয়া হিয়াকে নিয়ে বসার রুমে এলো।
রাদিয়াকে দেখে দিগন্ত হা হয়ে আছে।এই
প্রথম মেয়েটা শাড়ি পড়েছে।নীল রং এর
জামদানিতে একদম অপ্সরা
লাগছে তার সাথে কাজল মাখা
চোখ, কোমড়ের নিচ পর্যন্ত যাওয়া খোলা
চুল।এই প্রথম ওকে এইভাবে দেখলো দিগন্ত।
অন্য এক অনুভূতি যেনো দিগন্তকে ঘিরে
ধরেছে ।আশে পাশে কি হচ্ছে তাতে হুশ নেই
ওর।ও রাদিয়াকে দেখায় ব্যস্ত।
অনেক্ষন ধরে সেটা খেয়াল করছে রাদিয়া।
” ওই তুই কি দেখিস এইভাবে?” ঘোর কাটে
ওর।
“পেত্নী কে”
“হুহ আর তুই কি? কাউয়া।”
ছেলেপক্ষের পছন্দ হয়েছে হিয়াকে তাই
আজই আংটি পড়িয়ে গেছে।
রাদিয়া হিয়ার সাথে গল্প করছে হিয়ার হবু
বর নিয়ে।আর দরজায় হেলান দিয়ে
রাদিয়াকে দেখে যাচ্ছে দিগন্ত।অন্য এক
ভালো লাগা গ্রাস করছে ওকে।
রাদিয়া সেটা দেখেও না দেখার ভান
করছে।
.
“রাফির( হিয়ার হবুবর) সাথে ওর যে চাচাতো
ভাই এসেছিল’অয়ন’ ওর মার নাকি রাদিয়াকে
পছন্দ হয়েছে।বিয়ের প্রস্তাব দিতে চায়। “
দিগন্তের মা রাদিয়ার
আম্মুকে কথাটা বলল।
পিছন থেকে দিগন্ত কথাটা শুনে নেয়।
বুকের ভেতর কেমন মোচোড় দেয় ওর।মন টা
যেনো কেমন করে উঠে।কথাটা শুনে
মোটেও
ভালো লাগেনি ওর।
পিছন ঘুড়েই দেখে রাদিয়া দাড়িয়ে।
রাদিয়া দিগন্তের হাত ধরে ভেতরে যায়।
হাত ছেড়ে দিয়ে বলতে থাকে
“আম্মু আর আনটি শুনো তোমরা যদি
ভাবো আমাকে বিয়ে দিয়ে তোমার এই পাগল
ছেলের থেকে দূরে সরিয়ে দিবে তা
হচ্ছেনা।”
” কি বলছিস তুই?”
” ঠিকি বলছি আমি তোমাদের ঘাড় থেকে
নামছিনা। আমি প্লান করেছি তোমার বজ্জাত ছেলে
কে আমি ঠিক করেই ছাড়বো ।তোমার ছেলে ত
আমাকে পেত্নী
বলে।আমি সারাজীবন এর মত ওর ঘাড়েই
পেত্নী হয়ে থাকব। ওইখানে আমি আর
কাউকে জায়গা দিচ্ছিনা।ওর চুল ছিড়ার
অধিকার ও আমার। ওকে মারার অধিকার ও
আমার।আমি সারাজীবন এই বাড়ির পেত্নী
হয়ে থাকব।এই বজ্জাত টার পেত্নী। “
সবাই হা হয়ে শুনছে রাদিয়ার কথা।
দিগন্ত নিজেও হা হয়ে আছে।
” ওই মুখ বন্ধ কর।মাছি যাবে।”
সবাই হেসে দেয়।দিগন্ত মাথা চুলকাতে
ব্যাস্ত।
ছাদে দাড়িয়ে আছে বজ্জাত আর বজ্জাতের
পেত্নী উপ্স দিগন্ত আর রাদিয়া।
” তুই নিচে কি কি বললি?”
” কেনো তুই শুনিস নি?”
” শুনেছি কিন্তু বিশ্বাস হচ্ছেনা।মানতে
পারছিনা।”
“তাহলে আর কি আম্মুকে যেয়ে বলি তুই
রাজি না ওই অয়ন না ফয়ন ওর সাথেই বিয়ে
ঠিক করুক।বলেই চলে যাচ্ছিল রাদিয়া।
দিগন্ত এক টানে বুকে জরিয়ে নেয় রাদিয়াকে।
” ইশ আমি আমার পেত্নী কে কাউকে দিব
না।”
“তুই আবার পেত্নী বললি আমাকে? তুই শেষ
এবার”
” উরিম্মা হবুবর কে কেউ এভাবে মারে??”
” হবু বর!? দাড়া বের করছি হবু বর।”
দিগন্ত দৌড়াচ্ছে পিছে রাদিয়া কোমড়ে
আচল গুঁজে ধাওয়া করছে।
(আপনারাই বলেন বিয়ার আগেই এমন ভাবে
বর কে দৌড় এর উপর রেখেছে।বিয়ের পর কি
করবে আল্লাহ জানে।)
আমি ভাগছি।আপনারাও ভাগেন।

কেউ কাউকে ভালবাসি বলেনি কিন্তু ২
জনেই জানে এরা একে অপরকে ছাড়া অপূর্ণ।
ভালো থাক ভালোবাসা, ভালো থাক
ভালোবাসার প্রতিটি মানুষ। পরিপূর্ণ করুক
একে অপরকে তাদের সমস্ত ভালোবাসা
দিয়ে।
সমাপ্ত।

বজ্জাতের_পেত্নী

লেখিকা- নিলান্তিকা নাদিয়া

Tags

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close