দৈনিক মতামত

মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী

শিক্ষা

চিঠি লেখার সঠিক নিয়ম ও নমুনা A ট Z বিস্তারিত

প্রিয় দৈনিক মতামতের পাঠকবৃন্দ!৷ আশা করি ভালো আছেন।আজকে আমরা চিঠি-পত্র নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো। ইনশাআল্লাহ

চিঠি – পত্র

চিঠি হৃদয়ের কথা বলে।

পৃথিবীর শুরু লগ্ন হতে আজ-অব্দি চিঠির ব্যবহার প্রচলিত। এক যুগে সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ছিলো চিঠি।ছিলো না চিঠির বিকল্পও ! কেননা মানুষকে বলা হয় সমাজিক জীব, সমাজ গঠন ছাড়া মানুষের চলাফেরা খাওয়া-দাওয়া ইত্যাদি দুর্বিষহ হয়ে পড়ে।

আর সমাজ গঠনের জন্য সর্বপ্রথম কাজ হলো যোগাযোগ। আদি যুগে এখনকার মত প্রযুক্তির মাধ্যমে যোগাযোগের ব্যবস্থা না থাকায়, মানুষ যোগাযোগের জন্য চিঠি ব্যবহার  করতো।ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় কাজেও চিঠির ব্যবহার হতো।

চিঠি লেখার ইতিহাস

সর্বপ্রথম কে চিঠির ব্যবহার শুরু করে? এমন প্রশ্নের উত্তর আজও খুঁজে পায়নি ইতিহাসবিদরা।তবে,আমি ইতিহাস ঘেঁটে এতটুকু জানতে পেরেছি যে, মিসর তথা মধ্যপ্রাচ্যের রাজা-বাদশারা সর্বপ্রথম চিঠির ব্যবহার চালু করে।তারপর রাজসভা ব্যবহৃত হতে হতে মিসরিরা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনেও চিঠির আদান-প্রদান শুরু করে।

তখন পর্যন্তও কাগজের আবিস্কার হয়নি, মানুষ চিঠি লিখতো গাছের পাতায় ও চালে।এমন ভাবেই কেটে যায় কয়েকটি  যুগ।জামানার পালাবর্তনে মানুষ হতে থাকে সভ্য, তখন মানুষ পরিচিত হয় চামড়ার পোশাকের সাথে।পরিবর্তন হতে থাকে রাষ্ট্রীয় আইন-শৃঙ্খলায়ও! রাষ্ট্রীয় আইন-কাঠামো লেখা শুরু হয়  পশুর চামড়ার উপর।অতঃপর আস্তে আস্তে লোকেরা চামড়ায় লেখা  চিঠিও আদান-প্রদান করে।
এতদিনে চিঠি আদান-প্রদানের রিতী ছড়িয়ে পড়ে সারা দুনিয়ায়।এরই মধ্যে হয় কাগজের আবিস্কার। তখন আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা লাভ করে চিঠি আদান-প্রদান।ভারত উপমহাদেশেও চিঠির প্রচলন বেশ চালু হয়।

জানা যায় ঈসায়ী শতাব্দীর পুর্বেও এই ভারতবর্ষে চিঠি আদান-প্রদান করা হতো।আবার অনেকেই চিঠিকে শিক্ষা ও লেখালেখির একটি শাখা ভাবতো।উপ-ভারত মহাদেশে শিক্ষা-সংস্কৃতির অগ্রগতির ছোঁয়া লাগলে চিঠির আদান-প্রদান এত হারে বেড়ে যায় যে, বর্তমানে চিঠি সাহিত্যের একটি বিশাল অংশ দখল করে আছে।কবি বলেছেন যে, চিঠির সাথে বাঙালীদের মাছ ভাত সম্পর্ক।

প্রিয় পাঠকবৃন্দ! আমরা এতক্ষণ ধরে চিঠি আদান-প্রদানের প্রাথমিক ইতিহাস পড়ে আসছি।এবার আমরা পড়বো চিঠির প্রকারভেদ।

চিঠির প্রকারভেদ

  1. ব্যক্তিগত চিঠি।তথা প্রেম-ভালোবাসা বিনময় এবং বন্ধু বান্ধবের বরাবর যে পত্র প্রেরণ করা হয়  ।
  2. পারিবারিক চিঠি। তথা মা-মাবা ভাই-বোন আত্মীয় স্বজনদের সাথে ভাব বিনিময় আদানপ্রদানের জন্য যে পত্র প্রেরণ করা হয়।
  3. আবেদনপত্র।তথা চাকরি ও সমাজিক উন্নয়নের জন্য জন্য যে পত্র প্রেরণ করা  হয়।
  4. সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য পত্র। তথা সমাজের বর্তমান অবস্থান তুলিয়ে ধরার জন্য সম্পাদকে নিকট যে পত্র প্রেরণ হয়।
  5. মানপত্র বা অভিনন্দনপত্র।তথাঃ- সম্মানী বা প্রাপ্তি স্বীকারের জন্য যে পত্র প্রেরণ করা হয়।
  6. বাণিজ্যিক পত্র।তথাঃ-বানিজ্যিক অবস্থান তুলে ধরার জন্য যে পত্র প্রেরণ করা হয়।
  7. নিমন্ত্রণপত্র।তথাঃ-প্রিয়জনকে আমন্ত্রণের জন্য যে পত্র প্রেরণ করা হয়।
  8. স্মারকলিপি বা অভিযোগপত্র। তথাঃ- দূর্ণীতি রুখে দেওয়ার জন্য যে পত্র প্রেরণ করা হয়।
  9. তাছাড়াও রয়েছে খোলা চিঠি।

চিঠি – পত্র লেখার কিছু কৌশল

  1. প্রাপক বড় হলে সম্মান ও শ্রদ্ধা সূচক শব্দ ব্যবহার করতে হবে।আর ছোট হলে স্নেহময় শব্দ ব্যবহার করতে হবে।
  2. যথাযথ সম্বোধন তথা যারা যে সম্বোধন করা উচিত তা করতে হবে।
  3. চলিত ভাষা ব্যবহার করার চেষ্টা করতে হবে।
  4. সক্ষিপ্ত ও গুছিয়ে  লিখতে হবে।
  5. লেখা গভীর ও মাধুর্য হওয়া উচিত।
  6. হাতে লিখিত পত্র হলে স্পষ্ট হতে হবে
  7. ঠিকানা সঠিক হতে হবে।

চিঠি – পত্রে লেখার সময় সম্বোধনকৃত জরুরি শব্দ বলি

চিঠি – পত্র লেখার শুরুতে অর্থাৎ ভূমিকায় এবং শেষে অর্থাৎ ইতি টানতে সাধারণত অনেক শব্দই ব্যবহার প্রাপককে সম্বোধন করে লিখতে হয়। যদি শব্দ গুলো আপনি না জানেম তাহলে চিঠিকে মাধুর্য করে তুলতে পারবেন না। তো এক নজরে জেনে নিন জরুরি শব্দ গুলো..

শব্দধর্মসম্বোধনবাক্যের অংশ
৭৮৬ইসলামআল্লাহউপরে
আল্লাহ ভরসাইসলামআল্লাহউপরে
God is kind,হিন্দুস্রস্টাউপরে
ঈশ্বর বা ভগবানহিন্দুভগবানউপরে
জনাবমুসলিমপ্রাপক বড় হলেশুরুতে
পাক জনাবেষু,মুসলিমপ্রাপক বড় হলেশুরুতে
বাদ আরজমুসলিমপ্রাপক বড় হলেভূমিকায়
শ্রীচরণ কমলেষুহিন্দুপ্রাপক বড় হলেশুরুতে
ভক্তি ভজনেষু হিন্দুপ্রাপক বড় হলেশুরুতে
শ্রদ্ধেয়অসাম্প্রদায়িকপ্রাপক বড় হলেশুরুতে
দোয়াবরেষুমুসলিমপ্রাপক ছোট হলেশুরুতে
দোয়াবরমুসলিমপ্রাপক ছোট হলেশুরুতে
প্রীতি ভজনেষুহিন্দুপ্রাপক ছোট হলেশুরুতে
স্নেহময়অসম্প্রদায়িকপ্রাপক ছোট হলেশুরুতে
বন্ধুবরঅসম্প্রদায়িকপ্রাপক বন্ধু হলেশুরুতে
প্রিয়তমাঅসম্প্রদায়িকপ্রাপক প্রেমিকা/স্ত্রী হলেশুরুতে
প্রিয়বরঅসম্প্রদায়িকপ্রাপক স্বামী হলেশুরুতে
প্রিয় বান্ধবীঅসম্প্রদায়িকপ্রাপক বান্ধবী হলেশুরুতে
প্রিয় বন্ধু, ,অসম্প্রদায়িকপ্রাপক বন্ধু হলেশুরুতে
প্রিয়তমঅসম্প্রদায়িকপ্রাপক স্নেহের হলেশুরুতে
সবিনয় নিবেদন, মহাশয়-মহাশয়া, জনাব-জনাবা অসম্প্রদায়িকআবেদনপত্রে, নিমন্ত্রণপত্রে, অভিনন্দনপত্রে ও মানপত্রে পরিচিত-অপরিচিত ভদ্রলোক ও ভদ্রমহিলাশুরুতে
স্নেহেরমুসলিমপ্রাপক বড়হলেশেষে
আরজগোজারমুসলিমপ্রাপক বড় হলেশেষে
খাদেমমুসলিমপ্রাপক বড় হলেশেষে
সেবকহিন্দুপ্রাপক বড় হলেশেষে
প্রণতহিন্দুপ্রাপক বড় হলেশেষে
আশিষ প্রার্থীহিন্দুপ্রাপক বড় হলেশেষে
স্নেহেরঅসাম্প্রদায়ীকপ্রাপক বড় হলেশেষে
  • প্রাপক গুরুজন হলে নামের পূর্বে মুসলমানদের লিখতে হয় জনাব, জনাবা, এবং হিন্দুদের লিখতে হয় পরম পূজনীয়, মহাশয়-মহাশয়া ইত্যাদি। প্রাপক কনিষ্ঠ হলে লিখতে হয় দোয়াবর কিংবা স্নেহাস্পদ।
  • পিতা-মাতা, চাচা, মামা, বড় ভাই, বড় বোন, ফুফুর বেলায় সম্ভাষণ ও কুশল জ্ঞাপন প্রায় একই হয়। শুধু মুল বক্তব্য ভালভাবে গুছিয়ে লিখতে হয়। সমাপ্তি বক্তব্যও প্রায় একই।

চিঠি লেখার নিয়ম

সব কিছুরই নির্দিষ্ট নিয়ম থাকে। তাই চিঠি পত্রও লিখার নির্দিষ্ট নিয়ম আছে।সর্বপ্রথম উপরে ৭৮৬/আল্লাহু আকবার এ জাতীয় সমার্থবোধক শব্দ লিখতে হবে।তারপর বিসমিল্লাহ ও জনাব/জনাবা/স্নেহময়/প্রিয় এ জাতীয় শব্দ দ্বারা শূরু করবে। বা’দে আরজ বা এ জাতীয় শব্দ দ্বারা ভুমিকা তথা মূল আলোচনা শুরু করবেন ।সবিনয় নিবেদন, মহাশয়-মহাশয়া, জনাব-জনাবা অথবা স্নেহময় জাতীয় শব্দ দ্বারা লেখা ইতি টানবেন।

চিঠি

পাঠকদের সুবিধার্থে নিচে কয়েকটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাছাড়াও আপনার লেখা চিঠি থাকলেও কমন্ট করুন, আমরা এই পোস্টে আপনার চিঠিটাও সংযোগ করে দিবো।

২ মিনিটে শিখুন যেকোনো দরখাস্ত লেখার নিয়ম

পুত্রের নিকট বাবার চিঠি

স্নেহের সাইফুল্লাহ,

আমার পক্ষ থেকে তোমার জীবনে পাওয়া প্রথম উপহারটি যখন তুমি হাতে নিয়ে আনন্দে আপ্লুত হয়ে নাড়াচাড়া করে দেখতে গিয়ে এই চিঠিখানা তোমার দৃষ্টিগোচর হবে, এবং তার ভাঁজ খুলে যখন পড়তে থাকবে, ঠিক তখন আমি তোমার কাছ থেকে শতশত কিলোমিটার দূরে কর্মময় জীবনের ব্যস্ততম সময় কাটাতে থাকবো।

যদিও মনে বড় সাধ ছিলো আমার প্রথম উপহারটি আমি নিজ হাতে তোমাকে দিয়ে তোমার সহাস্যমুখ খানা অবলোকন করবো, কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ছুটে চলা সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে তা আর হলো না, কর্মস্থলে চলে আসার কারনে। তাই তোমার আম্মুকে আমার অপূরণীয় দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে বলে এসেছি যাতে সঠিক সময়ে এই উপহারটি তোমার হাতে তুলে দেয়।

আজ ২০২০ সাল। অতীতের সব সুখ-দুঃখ ও হাসি-কান্নাকে স্মৃতির এলবামে জমা রেখে বছরগুলো হারিয়ে গেছে অনন্তকালের জন্য, আর অনাবিল আনন্দ নিয়ে নববর্ষ এসেছে মহাকালের সাক্ষী হতে। আজকের এই নববর্ষের প্রথম প্রহরে আম্মুর হাত থেকে আব্বুর দেয়া উপহারটি বুঝে পেয়ে নিশ্চই তুমি খু-উ-ব খুশি হয়েছো। যা আমি এই মুহুর্তে হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে পারছি। তোমাকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে মহান আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করছি যাতে তোমার আগামীর পথচলা সুন্দর ও সুগম হয়।

প্রিয় পুত্র, তুমি তোমার গতিময় জীবনের পনেরো বছর অতিবাহিত করতে যাচ্ছ, কালের পরিক্রমায় লেখাপড়ার মাঝে নিজেকে মনোনিবেশ করে প্রতিটি বছর বার্ষিক পরীক্ষায় বেশ ভালোভাবেই উত্তীর্ণ হয়ে নতুন ক্লাসে নতুন পাঠ্যবই পাঠ করে সফলতার সহিত এগিয়ে যাচ্ছ, এতে করে বাবা হয়ে আমি যেমন গর্বিত তোমার আম্মুও বেশ আনন্দিত।

একটি কথা ধ্রুব সত্য যে, আমি তোমাকে কখনো বলিনি যে, তুমি পরীক্ষায় জিপিএ ফাইভ বা গোল্ডেন এ প্লাস পেতেই হবে, এবং আগামীতেও তা বলবোনা। কেননা তেমার প্রতি আমার এবং তোমার আম্মুর অগাধ বিশ্বাস রয়েছে যে, তুমি কখনো আমাদেরকে নিরাশ করবেনা।

তবে আমি তোমার নিকট সবসময় যেটা কামনা করি তা হলো তোমার নৈতিক চরিত্র যেনো হয় ফাস্ট ক্লাস ফাস্ট, তোমার আচার আচরণ যেনো শালিন ও মার্জিত হয়, তোমার কৃষ্টি কালচার যেনো হয় ইসলামী ভাবাপন্ন, সবসময় ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলবে। তুমি তোমার অন্তরে ইসলামী শিক্ষার আলো জ্বালালে সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে দ্রুত পদার্পণ করবে। অবহেলিত সুবিধাবঞ্চিত গরীব দুঃখিকে সহযোগিতা করতে তুমি সর্বাগ্রে থাকবে।

প্রিয় পুত্র, আজ তুমি যে ভাষায় মনের ভাব প্রকাশ করছো তা অর্জন করতে এক সাগর রক্তদান করেছেন অকুতোভয়ী বীর ভাষা শহীদগণ। অন্তরে দেশাত্মবোধ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধরে রাখবে চিরদিন।

মনে রাখবে পরাধীন বাংলাদেশের মানুষকে স্বাধীনতার স্বাদ পাইয়ে দিতে লড়ে যাওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে তোমার দাদাভাইও একজন রয়েছেন। তুমি গর্বিত এক বীর মুক্তিযোদ্ধার বংশধর। তাই মহান ভাষা সৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান তোমার নিকটে থাকবে সর্ব শিখরে, জাতীয় পতাকাকে সর্বদা সর্বোচ্চ সম্মান জানাবে।

প্রিয় পুত্র, জীবনে চলার পথে যখন তুমি বাস্তবতার সম্মুখীন হবে, তখন পৃথিবী নামক রঙ্গমঞ্চের আসল রূপ অবলোকন করতে পারবে। তাই বিপদে কখনো ধৈর্য হারা হবেনা, সবসময় মাথা ঠাণ্ডা রেখে ধৈর্য সহকারে ভেবেচিন্তে বিপদের মোকাবিলা করবে। কারো প্ররোচনায় নয়, নিজের বিবেক বুদ্ধি খাটিয়ে বিচার বিশ্লেষণ করে কাজ করবে। কারন মানুষের বিবেক হচ্ছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ আদালত।

আজকের কাজ কালকের জন্য রেখে দিবেনা, তাহলে অলসতায় তোমার শান্তি বিনষ্ট হবে, প্রতিদিনের কাজ প্রতিদিন সম্পন্ন করা অতি উত্তম। অপারগতা না হলে নিজের যে কোন কাজ (হোক ছোট বা বড়) করতে কাউকে হুকুম করবেনা, নিজে থেকে তা করে নিবে এতে করে তোমার সম্মানহানী হবেনা বরং মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।

সমাজের যারা নিচু শ্রেণীর কাজ করে তাদেরকে সবসময় সম্মান করে চলবে, কারন তাদের এই কর্মগুনে তুমি সাচ্ছন্দে সুখশান্তিতে সমাজে বসবার করতে পরছো, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশে বিচরণ করে প্রকৃতির নির্মল সুবাতাস বুকভরে গ্রহণ করতে পারছো।

প্রিয় পুত্র, মনে রাখবে রেগে গেলে তো হেরে গেলে, তাই রাগকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখবে, কারো কথায় বা কাজে কষ্ট পেলেও তা প্রকাশ না করে হাসিমুখে তার বা তাদের সঙ্গ ত্যাগ করবে, কারন দুষ্ট গরু থাকার চেয়ে শূন্য গোয়াল থাকাই উত্তম।

অশিক্ষিত বন্ধুর চেয়ে শিক্ষিত শত্রু অনেক ভালো। কারো আহবানে সাড়া দিতে গিয়ে ভেবে নিবে, সে যদি শিক্ষিত হয় তাহলে তোমার আচার ব্যবহারের যত্ন নিবে, আর সে যদি অশিক্ষিত হয় তাহলে তুমি তোমার পোশাকের যত্ন নিবে।

মনে রেখ! মানুষ কখনো ইচ্ছে করে বদলায় না, কিছু মানুষের অবহেলা, কিছু সম্বতি আর পরিস্থিতি তাকে বদলাতে বাধ্য করে। তবে অন্তরে লুকিয়ে থাকা স্বপ্নকে হারিয়ে যেতে দিওনা, স্বপ্নের ছোট বীজ থেকেই সুন্দর আগামীর সৃষ্টি হয়। জীবনে সাফল্য পেতে হলে মানব জীবনে তিনটি “প” সবচেয়ে দরকার, তা হলো প্রতিভা, পরিশ্রম এবং পেশেন্স।


হিংসা, দ্বন্দ্ব – বিদ্বেষ পরিহার করে জাতি-গোষ্ঠী, ধর্ম-বর্ণ ভেদাভেদ ভুলে আগামীর সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে সোচ্চার হবে। পরিশেষে তোমার দীর্ঘায়ুর ও ভবিষ্যৎ জীবনের পথচলা সুন্দর এবং মশ্রিন হোক এই কামনায় শেষ করছি।

ইতি :-
তোমার আব্বু হ ম আজাদ
০৬/১১/২০১৯

বড় বোনের নিকট ছোট বোনের চিঠি

চিঠি লেখার নিয়ম
চিঠি লেখার নিয়ম

শ্রদ্ধেয়া বুবু,

লেখার শুরুতে জানাই, তোকে ছাড়া এতগুলো বছর কাটানোর নিদারুণ হাহাকার ভরা ভালোবাসা! অনেকদিন তোকে দেখিনি। কেমন আছিস তুই? আশা করি পরম করুণাময়ের কৃপায় ভালোই আছিস। তোকে ছাড়া আমি কতটা ভালো থাকি সেটা তো তুই ভালো করেই জানিস। আর আমিও জানি, আমাকে ছাড়া তোরও খুব কষ্ট হয়। কিন্তু কী করবি বল্, এ যে পৃথিবীর রীতি। সব মেয়েদেরকেই একদিন না একদিন আপন বন্ধন ছিন্ন করে পরের বাড়িতে ঠাঁই নিতে হয়। তুইও এর ব্যতিক্রম নোস।
বুবু, আজ তোকে আমি আবার সেই ছোট্টবেলায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবো। যবি তো? তাহলে চল দুজন ঘুরে আসি মধুময় অতিত থেকে।

আমি তখন খুব ছোট। তুইও অনেকটাই ছোট ক্লাস ফাইভে পড়তিস। তখন সকালের মক্তবেও যেতিস। একদিন আমি বায়না ধরেছিলাম- “বুবু আমিও তোর লগে মক্তবে পড়তে যাইবাম।” আমি ছোট ছিলাম বলে প্রথমে তুই না করেছিলি। কিন্তু আমি তোর পিছু ছাড়ছিলাম না। তারপর বাধ্য হয়েই আমাকে মক্তবে নিয়ে গিয়েছিলি। তারপর ঘটল যতসব কাণ্ড! তুই তো পড়তেছিলি মন দিয়ে, আমি কোথায় আছি সেই খেয়াল ছিল না তোর। কিন্তু, হঠাৎ করে তোর খেয়াল হলো, যে আমি কোথায়? তুই আমাকে বারবার ডাকছিলি। কিন্তু আমি সাড়া দেইনি। সাড়া দেবোই বা কী করে, আমি তো মক্তবে সবার মাঝখানে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম! হুজুর ডেকে বললো- এই মালা, তোর বোন ঘুমিয়ে পড়েছে ওরে বাড়ি নিয়ে যা। হিহি। আচ্ছা, ওসব কথা এখন থাক্।

এবার বল্ আমার টুকটুকে ভাগ্নীটা কেমন আছে? কবে দেখব ওকে,তুই কবে আসবি আমার টুকটুকে ভাগ্নীকে নিয়ে? ওকে দেখার ভাগ্যটাও বুঝি আমার নেই? দুলাভাইয়ের কথা জিজ্ঞেস করব না। সে একটা পাষাণ্ড ব্যক্তি! সেই দশ বছর পেরিয়ে গেল তোকে নিয়ে সিঙ্গাপুর চলে গেল, এখনো আসার নাম নেই!

বুবু, আজ তোকে খুব মনে পড়ছে রে। চলে আয় না, আবার তোর সাথে একটু ঝগড়া করব! মায়ের মিষ্টি বকুনি শুনব! তোর কি মনে পড়ে না, সেসব দিনের কথা? একদিন বিকালে একটা শাপলা ফুল নিয়ে দুজনার মাঝে কী যে ঝগড়া হয়েছিল মনে আছে? শেষ পর্যন্ত শাপলা ফুলটা আমারই হয়েছিল। তুই বাধ্য হয়েই ফুলটা আমাকে দিয়ে দিয়েছিলি। আরো কত কথা যে মনে পড়ে আমার! সব কথা স্মৃতি হয়ে হৃদয়টাকে আগলে রেখেছে। যা প্রতিনিয়ত বেদনার বীজ রোপণ করে! আবার কখনো কখনো হারানো সুখের রাজ্যে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। মনে আছে,আমরা প্রতিদিন বিকালে কানামাছি খেলার জন্য দৌড়ে যেতাম শিপলুদের বাড়িতে। মা পেছন থেকে ডাকত পড়তে বসার জন্য। আমি সাড়া দিতে চাইলে তুই বলতি- চুপ, কতা কইছ না, আগে খেইল্যা আই তারপরে ফরবাম নে।
এভাবে রোজ আমরা পড়া ফাঁকি দিয়ে খেলা করতাম।
বুবু, আমার একটা কবিতা মনে পড়ছে রে,,
“রোজ বিকালে খেলতে যেতাম
শিপলুদাদের বাড়ি,
কুতকুত আর বউচি খেলায়
হইতো ভীষন আড়ি।”

হিহিহি, এটা কোন কবিতা হলো? তুই হয়ত তাই ভাববি। তাতে কি! কবিতা না হোক দুইটা লাইন তো হয়েছে? আমাদের স্মৃতিমাখা লাইন।

আরো কত কথা লিখার ছিল তোকে। অনেক কথাই লিখতে বাদ পড়ে গেল। সব কথা লিখা সম্ভব নয়। এত দীর্ঘ লেখা পড়ে তুই হয়তো রেগে যাবি! পরিশেষে বলবো- তুই ভালো থাকিস, শরীরের প্রতি খেয়াল রাখিস, পরিবারের যত্ন নিস। তোর সুখি ও সুন্দর জীবনের কামনা করি। আর আমার জন্য দোয়া করিস।

ইতি
তোর স্নেহের
পুষ্প

দাদার কাছে নাতনির চিঠি

চিনিচোর,

কেমন আছেন জিজ্ঞেস করব না। কারণ, আমি জানি আপনি ভালো আছেন! ভালো না থাকলে এত্ত এত্ত চিঠি লিখতে পারতেন না। হু,,
ওরে বাপরে, কত্তগুলা চিঠি লেখছেন! অবাক হই আমি। যাক্, লিখতে থাকুন। একদিন বড় ধরনের ‘চিঠিখোর’ হোন এই প্রত্যাশা করি।

আপনার চিঠি পাওয়ার পর থেকে আমারও হাতটা ক্যামন নিসপিস করছে, মনটা উসকোস করছে, অনুভুতিরা এলোমেলো ভাবে দৌড়াদৌড়ি করছে আর কলমটা ঢ্যাবঢ্যাব করে তাকিয়ে আছে আমার দিকে!
কেন বলুন তো?
কী, বুঝে গেছেন নিশ্চই!
হ্যাঁ, লেখার জন্য। আপনার চিঠির প্রতিউত্তর দেওয়ার জন্য।

এবার তাহলে কাজের কথায় আসি, আপনি জানতে চেয়েছেন আমার লেখালেখির অবস্থা সম্পর্কে। কেন নিয়মিত লিখছি না?
এর সঠিক কোনো উত্তর আমার কাছে নেই। আসলে আমি নিজেই ক্যামন জানি! মাঝে মাঝে ভালো লাগে আবার মাঝে মাঝে কী জানি হয়! নিজেই বুঝতে পারি না! মনে হয় লেখালেখি ফেসবুক সব বাদ দিয়ে দেই। কিন্তু চাইলেই তা সম্ভব হয় না। লেখালেখিটা আত্মার সাথে মিশে গেছে! আর ফেসবুক? সেটা তো একটা অদৃশ্য অক্টোপাস!

যাক্, বাদ দেন তো এসব। ও হ্যাঁ, আপনি যে আমার আবোলতাবোল লেখার এত বড় ফ্যান হয়ে গেলেন, সেটা ভাবতেই পারছি না। জেনে খুব ভালো লাগলো। আপনিও কিন্তু ভালো লেখেন।

আচ্ছা, এখনও কি আপনি চিনিচুরি করেন? হিহিহি,,
আমার ঠিক মনে আছে, একদিন নাশতার পর আপনার মা ঘুমিয়েছিলেন, আর সেই ফাঁকে আপনি চিনিচুরির প্রস্তুতি নিলেন। যখনই চিনির কৌটা নামাতে যাচ্ছেন অমনি কৌটাটা পড়ে গিয়ে সমস্ত চিনি ছিটকে পড়লো ঘরজুড়ে। শব্দ পেয়ে আপনার মায়ের ঘুম ভেঙে যায়। আর তখনই আপনি দিলেন এক দৌড়! আমরাও পেছন পেছন দৌড় দিলাম ধরার জন্য। আমি, সুইট আন্টি, নানু সবাই। কিন্তু আপনার পাত্তাই পাওয়া গেল না। ইশ্, সেদিন যদি ধরতে পারতাম তা’হলে শক্ত বিচার হতো!

ও হ্যাঁ, ভালো কথা মনে পড়ছে, আপনি আমারে ষাটের বুড়ি কন ক্যা? আমি কি বুড়ি হয়ে গেছি? হু? আরেকদিন আমারে ষাটের বুড়ি কইলে কিন্তু আমি ষাটের বুড়ার কাছে বিচার দিমু, বলে রাখলাম! হু,
তবে ‘অগ্রিম ষাটের বুড়ি’ বললে সমস্যা নাই।

আর কিছু লেখব না। আপনার নানির শুকনা মরিচগুলো ভাঙিয়ে এনেছেন কি? না আনলে এক্ষুণই যান। নইলে আবার নানি বকা দেবে। নানিকে সালাম আমার সালাম দিবেন।

ইতি
পুষ্প

আরো পড়ুন

2 COMMENTS

LEAVE A RESPONSE

Your email address will not be published. Required fields are marked *